অন্য এক জাফর ইকবাল

ছবি: সংগৃহীত

সোনিয়াকে ভালোবেসেই বিয়ে করেছিলেন জাফর ইকবাল। তবে এটাকে এক অর্থে ভালোবাসা বলা যায়না। তাদের ভালোবাসার মধ্যে ববিতা দণ্ডায়মান ছিলেন। যদিও ববিতা সেটা স্বীকার করেন না। সোনিয়া স্মার্ট আকর্ষণীয় ছিলেন, মডেলিং করতেন। তার বাবা ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম বিলেত ফেরত মুসলিম ইঞ্জিনিয়ার। বাংলা চলচ্চিত্রের সবচাইতে স্মার্ট ও ফ্যাশন আইকন স্বামী জাফর ইকবালকে বিয়ের পর স্বামীর মধ্যে প্রচুর বেখেয়ালি আচরণ দেখেছেন সোনিয়া। গভীররাতে মদ্যপ অবস্থায় জাফর ইকবালের বাড়ি ফেরা, ফ্ল্যাটের কলাপসিবল গেট খুলতে দেরি হওয়ায় তীব্র শব্দে গাড়ির হর্ন বাটন উপুর্যুপরি ধরে রাখা জাফর ইকবাল যখন দারোয়ানকে গালিগালাজ করে মারতে উদ্যত হওয়া। এসব দেখে আশেপাশের মানুষ অবাক হতেন, এই জাফর ইকবাল কি পর্দার সেই সুন্দর মানবিক চরিত্রের জাফর ইকবাল?? সোনিয়া দেখেছেন তার দাম্পত্য জীবনে ববিতার বিশাল ইনফ্লুয়েন্স। যে ইনফ্লুয়েন্সের জন্য তাদের দাম্পত্য জীবন সুখের হয়নি। একদিন তাঁদের ম্যারেজ ডে' ছিল। সকালে শ্যুটিংয়ে এফডিসিতে যাওয়ার আগে ব্রেকফাস্ট সারছিলেন জাফর ইকবাল। সোনিয়া ছুরি দিয়ে পাউরুটিতে মাখন লাগিয়ে ছেলেকে খাইয়ে দিচ্ছিলেন।

জাফর ইকবাল তাঁর পকেট থেকে জুয়েলারির একটা বক্স বের করে স্ত্রীর দিকে ধরে বললেন, "কাল রাতে নিউমার্কেট থেকে কিনেছি। তোমার পছন্দ হয় কিনা দেখো। পছন্দ না হলে রিটার্ন দিয়ে নিজের পছন্দমতো কিনে নিও"!! সোনিয়া ভীষণ সারপ্রাইজড হলেন। খুশিও হলেন জাফর ইকবালের কাছ থেকে ম্যারেজ ডে'র গিফট পেয়ে। উপহারটি ছিল একজোড়া সোনার কানের দুল। বহু অমনোযোগিতা উদাসীনতার মধ্যেও জাফর তাঁদের জীবনের বিশেষ দিনটি ভুলেননি। সোনিয়াকে দেখতে হয়েছে তার স্বামী কিভাবে ববিতার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছেন। হজম কর জাফর ইকবালের মৃত্যুর জন্য অনেকেই সোনিয়াকে দোষারোপ করেছেন। কিন্তু এটা অনেকে জানেন না যে সোনিয়া ভিকটিম ছিলেন। তাকেও সইতে হয়েছে মানসিক নিপীড়ন। তাদের দাম্পত্য অশান্তিতে কোনো না কোনোভাবে ববিতা "ম্যাটার" হয়েছিলেন। ১৯৯২ সালের ৮ জানুয়ারি যখন জাফর ইকবালের মৃত্যু হয় তখন মাইকে জাফরের কণ্ঠে বাজছিল, "হয় যদি বদনাম হোক আরও" বাজছিল। ফিল্ম ইণ্ডাষ্ট্রির প্রায় সব চিত্রতারকা ছুটে এসেছিলেন মৃত জাফরকে একনজর দেখতে। ববিতাকে দেখা যাচ্ছিলো শোকে কাঁদতে। কিছুক্ষণ পরপর মাথা হেলিয়ে দিচ্ছিলেন ববিতা। সবাই জানতেন ববিতার সাথে জাফরের প্রেমের কথা। শোনা গিয়েছিল সেদিন একজনই শুধু ভীষণ মনঃক্ষুণ্ন ছিলেন ববিতার প্রতি। তিনি জাফর ইকবালের একমাত্র বোন বিখ্যাত কণ্ঠশিল্পী শাহনাজ রহমতুল্লাহ। ভাইয়ের মৃত্যুর জন্য তিনি ববিতার উপর ক্ষ্যাপা ছিলেন। জাফর ইকবাল ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। তাদের দুইছেলে শাদাব জাফর ও জাইন জাফর।