ছবি: সংগৃহীত

আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রার সঙ্গে সুস্থতা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। তাই আমাদের খাদ্যতালিকায় সঠিক পরিবর্তন আনতে এবং স্বাস্থ্যবান থাকতে, পুষ্টিকর খাদ্য নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে কিছু চিকিৎসকের মূল্যবান পরামর্শ তুলে ধরা হয়েছে।

 

ভাত ও রুটি—দুটি খাবারেই কার্বোহাইড্রেটের উপাদান রয়েছে, তবে কিছু দিক থেকে তাদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ভাত ও রুটির মধ্যে প্রায় একই পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট থাকে, তবে সোডিয়ামের পরিমাণে কিছু পার্থক্য রয়েছে। সাধারণত চালের সোডিয়ামের পরিমাণ তুলনামূলক কম, যেখানে গমের সোডিয়ামের মাত্রা বেশি থাকে। ফলে, যদি চিকিৎসক সোডিয়াম কম খাওয়ার পরামর্শ দেন, তাহলে রাতে রুটি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

 

ভাতে প্রোটিন এবং ফ্যাটের পরিমাণ কম হলেও ক্যালোরির পরিমাণ বেশিরভাগ সময় বেশি থাকে। চিকিৎসকদের মতে, ভাত নিয়মিত খাওয়া হজমের জন্য ভালো এবং এতে থাকা ভিটামিনও স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তবে, বাজারে পাওয়া চকচকে পালিশ করা চালের ভাত না খেয়ে, কম পালিশ করা চালের ভাত খাওয়া শরীরের জন্য আরও উপকারি। কম পালিশ করা চালের ভাত পুষ্টি এবং হজমের জন্য ভালো।

 

রুটিতে প্রচুর ফাইবার, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং ফসফরাস থাকে। এছাড়া, রুটি থেকে শরীর সোডিয়ামও পায়। একদিকে যেখানে ভাত দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, সেখানে রুটি তুলনামূলকভাবে শর্করার মাত্রা বাড়ানোর ক্ষেত্রে কম কার্যকরী। রুটির উচ্চ ফাইবার উপাদান শরীরের হজম প্রক্রিয়া উন্নত করতে সহায়ক।

 

চিকিৎসকদের মতে, রাতে ভাত বা রুটি খাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আপনার শরীরের প্রয়োজনীয় উপাদানগুলোর দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। যেহেতু প্রতিটি খাবারের উপাদান আলাদা এবং প্রতিটি ব্যক্তির শরীরের চাহিদাও ভিন্ন, তাই খাদ্যতালিকা পরিবর্তন করার আগে একজন পেশাদার চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এই পরামর্শগুলো অনুসরণ করে, খাদ্যতালিকায় ভারসাম্য বজায় রেখে সুস্থ জীবনযাপন সম্ভব।