"সাহসের প্রতিদান অপমান? মুসলিমদের সমর্থনে মুখ খোলায় ,হিমাংশীর তিক্ত অভিজ্ঞতা"
"কাশ্মীরের পেহেলগাম হামলায় নিহত লেফটেন্যান্ট বিনয় নারওয়ালের নিথর দেহের পাশে স্তব্ধ হয়ে বসে আছেন তার স্ত্রী হিমাংশী নারওয়াল (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত"
কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ভারতীয় নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট বিনয় নারওয়ালের স্ত্রী হিমাংশী নারওয়াল সামাজিক মাধ্যমে মুসলিম ও কাশ্মীরিদের বিরুদ্ধে ছড়িয়ে পড়া ঘৃণার বিরুদ্ধে শান্তির আহ্বান জানিয়ে এখন উগ্র জাতীয়তাবাদীদের কটাক্ষ ও অপমানের শিকার হচ্ছেন।
হরিয়ানার বাসিন্দা লেফটেন্যান্ট বিনয় নারওয়াল সম্প্রতি পেহেলগামের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণ হারান। তাকে কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তার মৃত্যুতে স্ত্রীর শোকাবেগে স্তব্ধ হয়ে বসে থাকা একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়, যা জনমনে দারুণ সহানুভূতি সৃষ্টি করে।
কিন্তু গত বৃহস্পতিবার হিমাংশী প্রথমবারের মতো তার স্বামীর মৃত্যুর প্রসঙ্গে মুখ খুললে পরিস্থিতির মোড় নেয় ভিন্ন দিকে। তিনি বলেন, “আমি চাই না কারো প্রতি ঘৃণা ছড়াক। বিশেষ করে মুসলিম কিংবা কাশ্মীরিদের বিরুদ্ধে। আমরা কেবল শান্তি চাই।” তার এই বক্তব্যেই শুরু হয় অনলাইনে সমালোচনার ঝড়। উগ্র জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠী এবং ক্ষমতাসীন বিজেপির অনেক সমর্থক তাকে 'দেশদ্রোহী' আখ্যা দিয়ে গালিগালাজ ও হুমকি দিতে থাকে।
এমন ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজ্যসভার সংসদ সদস্য প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী। তিনি বলেন, “পেহেলগামের হামলায় এক তরুণ সেনা অফিসার প্রাণ হারালেন, আজ তার স্ত্রীকেও হতে হচ্ছে নির্যাতনের শিকার। চরিত্র হননের পাশাপাশি তাকে ট্রোল ও গালিগালাজ করা হচ্ছে, শুধুমাত্র তিনি ঘৃণার বিরুদ্ধে শান্তির বার্তা দিয়েছেন বলে।”
তিনি আরও বলেন, “যিনি নিজের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান মানুষকে হারিয়েছেন, এখন তাকেই ঘৃণায় বিদ্ধ করা হচ্ছে। এই ট্রোলাররা সন্ত্রাসীদের চেয়ে আলাদা কোথায়?”
ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তার ভাষায়, “আমাদের মন্ত্রী মনে করেন তারা ঘৃণার এই স্রোতকে আড়াল রাখতে পারবেন, কারণ ঘৃণা ছড়ানো এই অনলাইন সেনারা তাদেরই দলের সমর্থক। এটি লজ্জাজনক ও অমানবিক।”
এ ঘটনায় দেশব্যাপী নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ সোচ্চার হয়েছেন। শান্তির বার্তা দেওয়ায় একজন শহিদ সেনার স্ত্রীকে এভাবে লাঞ্ছিত করাকে অনেকেই দেখছেন বর্তমান ভারতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সংকট ও সহনশীলতার অভাবের প্রমাণ হিসেবে।
.jpg)
.jpg)
.jpg)



.jpg)
.jpg)
.jpg)