ইয়াহিয়া সিনওয়ার: গাজার প্রতিরোধের প্রতীক এবং ইসরায়েলের জন্য এক বিপজ্জনক শিক্ষা
গাজায় চলমান হামলার প্রেক্ষাপটে, প্রয়াত হামাস নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ারের বিষয়ে ইসরায়েলি গণমাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণ উঠে এসেছে। তিনি গতবছরের ইসরায়েলে হামাসের আক্রমণের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন এবং ইসরায়েল তার বিরুদ্ধে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড পার্সন’ হিসেবে পরিচিত ছিল।
সম্প্রতি ইসরায়েলের জনপ্রিয় দৈনিক ইসরায়েল হাইয়ুম এর কলামিস্ট ইয়াভ লিমুর এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, “ইসরায়েলের প্রতিষ্ঠার পর এমন বিপর্যয় আর আসেনি এবং এর জন্য মূলত দায়ী ইয়াহিয়া সিনওয়ার।” তিনি আরও বলেন, সিনওয়ার দুটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছেন, “শত্রুর মূল্যায়ন তার কথায় নয়, সক্ষমতায় করতে হয় এবং গাজার যোদ্ধারা স্যান্ডেল পরলেও তারা প্রশিক্ষিত, বিপজ্জনক এবং চতুর।
এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় সামরিক অভিযান চালাচ্ছে এবং হামাস জানিয়েছে তারা প্রতিরোধে প্রস্তুত। ইসরায়েলের সাবেক মেজর জেনারেলও স্বীকার করেছেন, হামাস বর্তমানে গেরিলা কৌশলে যুদ্ধ করছে, কিন্তু ইসরায়েল এখনও পুরনো কৌশলে আটকে রয়েছে, যা তাদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।
২০২৪ সালের ১৮ অক্টোবর হামাস ঘোষণা করে, ইয়াহিয়া সিনওয়ার শহীদ হয়েছেন। হামাস দাবি করে, তিনি কোনো সুড়ঙ্গে লুকিয়ে ছিলেন না, বরং রাফার তাল আল-সুলতান শরণার্থী শিবিরে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন। তিনি হাতে রাইফেল, গ্রেনেড ও গুলিভর্তি জ্যাকেট পরে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করেন। একসময় ইসরায়েলি ট্যাংক থেকে গুলি ছোড়া হলে এবং পরে ড্রোন হামলায় তিনি আহত হন। তার মাথায় ছিল কেফায়া, আর হাতে ছিল একটি লাঠি, যার সাহায্যে তিনি ড্রোনের দিকে ছুড়ে মারার চেষ্টা করেন। এরপর ইসরায়েল আবারও বোমা হামলা চালায়, এবং এতে তিনি শহীদ হন।
সিনওয়ারের মৃত্যু হামাসের জন্য একটি বড় ধাক্কা হলেও, তার সাহসী লড়াই ও আত্মত্যাগ ফিলিস্তিনিদের কাছে একটি প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে উঠেছে। ইসরায়েলি বিশ্লেষকরাও এখন মান্য করছেন, শত্রুকে অবজ্ঞা করা কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, এবং সিনওয়ার তার লড়াইয়ের মাধ্যমে এই পাঠটি দিয়েছেন।
ইয়াহিয়া সিনওয়ার ছিলেন এমন এক নেতা, যিনি কৌশল, সাহস ও আত্মত্যাগের অপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন। তাঁর শেষ যুদ্ধের কাহিনি ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনের ইতিহাসে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

.jpg)
.jpg)
.jpg)



.jpg)
.jpg)
.jpg)