সীমান্তে বিএসএফের সম্প্রসারণে বাংলাদেশের উদ্বেগ, বাড়ছে উত্তেজনা
ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সম্প্রসারণ পরিকল্পনা এবং সীমান্তে তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে বাংলাদেশে উদ্বেগ বাড়ছে। সম্প্রতি বিএসএফের পক্ষ থেকে ১৬টি নতুন ব্যাটালিয়ন গঠনের পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে, যার মধ্যে একটি হেডকোয়ার্টার মিজোরামে স্থাপন করা হবে। এই উদ্যোগকে অনেকেই ভারতের একতরফা সামরিকীকরণ এবং আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
ভারতের বিএসএফ সম্প্রতি লালমনিরহাটের দহগ্রাম সীমান্তে ১৫০ গজের নিরপেক্ষ অঞ্চলে বেআইনিভাবে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের চেষ্টা করেছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর প্রতিবাদ সত্ত্বেও বিএসএফ তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যায়, ফলে সীমান্তে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা এই বেড়া নির্মাণকে তাদের চলাচলের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন ।
ত্রিপুরার সেপাহিজলা জেলায় বিএসএফ সদস্যদের বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দাদের মোটরসাইকেল জব্দ করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা জানান, বিএসএফ সদস্যরা কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই তাদের মোটরসাইকেল নিয়ে যায়, যা তাদের স্বাধীন চলাচলের অধিকার লঙ্ঘন করে।
মিজোরামে বিএসএফের বর্ডার আউট পোস্ট (বিওপি) নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একটি তদন্তে দেখা যায়, প্রকৃত জমির মালিকদের বাদ দিয়ে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের জন্য ভুয়া দলিল তৈরি করেছেন ।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ত্রিপুরার সেপাহিজলা জেলায় বিএসএফ ও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের সদস্যরা আহত হন। বিএসএফের দাবি, অনুপ্রবেশকারীরা তাদের অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে তারা আত্মরক্ষার্থে গুলি চালায়।
ভারতের এই একতরফা সীমান্ত নীতিমালা ও কর্মকাণ্ড বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্তবর্তী জনগণের অধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত ভারতের এই আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া।
.jpg)
.jpg)
.jpg)
.jpg)



.jpg)
.jpg)
.jpg)