ছবি: সংগৃহীত

কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত এবং পাকিস্তান একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলে ভারত সিন্ধু পানি চুক্তি (১৯৬০) স্থগিত করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারত, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে শুরু করেছে।

 

ভারতের সরকার, পাকিস্তানের সাথে সিন্ধু পানি চুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিত করার পর নতুন ৬টি হাইড্রোইলেকট্রিক প্রকল্পের কাজ হাতে নিয়েছে। ভারত সরকার এসব প্রকল্পের মাধ্যমে সিন্ধু নদীর পানি আটকানোর পরিকল্পনা নিয়েছে, যা পাকিস্তানের পানির প্রবাহে প্রভাব ফেলতে পারে।

এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত-শাসিত কাশ্মীরের পেহেলগামে গত সপ্তাহে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন পর্যটক নিহত হওয়ার এক সপ্তাহ পর ভারত সরকার প্রথম প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে এই চুক্তি স্থগিত করেছে। এই পদক্ষেপে ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর অঞ্চলে একাধিক হাইড্রোইলেকট্রিক প্রকল্পের জলাধার সংস্কার এবং নতুন প্রকল্পের নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।

 

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাওয়ালকোট (১,৮৫৬ মেগাওয়াট), কিরথাই-১ ও ২ (১,৩২০ মেগাওয়াট), এবং পাকাল দুল (১,০০০ মেগাওয়াট) সহ আরো ছয়টি বড় প্রকল্পে কাজ শুরু করা হবে। এই প্রকল্পগুলি, যাতে প্রায় ১০,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে এগোচ্ছে, পাকিস্তানের জলবিদ্যুৎ এবং সেচ ব্যবস্থায় গভীর প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো, ভারত সরকার এই প্রকল্পগুলি নির্মাণে পাকিস্তানের অনুমতি বা সম্মতির অপেক্ষায় না থেকেই সরাসরি কাজ শুরু করতে সক্ষম হবে, কারণ সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত হওয়ার পর আইনি বাধাগুলি এখন আর কার্যকর হবে না।

 

পাকিস্তান ভারতের এই পদক্ষেপকে ‘যুদ্ধের সমতুল্য’ বলে আখ্যায়িত করেছে এবং হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, ভারতের পক্ষ থেকে কোনো পানিপ্রবাহ বন্ধ করা হলে তারা আন্তর্জাতিক আদালতে যাবে। পাকিস্তানের সেচ ব্যবস্থা মূলত সিন্ধু নদ এবং তার শাখা নদীগুলোর ওপর নির্ভরশীল, তাই পানিপ্রবাহের কোনো পরিবর্তন তাদের কৃষি উৎপাদন এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যাপক ক্ষতি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, যদিও ভারত এখনই পুরোপুরি পানি বন্ধ করতে পারছে না, তবে এটি পাকিস্তানের জন্য একটি কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করার কৌশল হিসেবে ব্যবহার হতে পারে। ইতোমধ্যে বাগলীহার বাঁধে কিছুক্ষণের জন্য পানি রোধ করা হয়েছিল, যা পাকিস্তানের জন্য একটি সতর্কবার্তা ছিল।

 

১৯৬০ সালের সিন্ধু পানি চুক্তি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পানির সরবরাহ নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা। চুক্তি অনুযায়ী, ভারতের নিয়ন্ত্রণে থাকা নদীগুলোর পানি পাকিস্তানকে নির্দিষ্ট পরিমাণে সরবরাহ করতে হবে। তবে, ভারতকে পাকিস্তানের ছয় মাস আগাম নোটিশ দিয়ে কোনো নতুন প্রকল্প শুরু করতে হতো, এবং পাকিস্তান তা নিয়ে আন্তর্জাতিক ফোরামে আপত্তি তুলত।

তবে এখন, চুক্তি স্থগিত হওয়ার পর ভারত এসব প্রকল্পে দ্রুততার সাথে কাজ শুরু করতে সক্ষম হবে, যা পাকিস্তানের পানির সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।

 

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি একটি নতুন উত্তেজনাপূর্ণ অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। এই সংকট কেবল দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ককে আরো জটিল করবে না, বরং দক্ষিণ এশিয়ার পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।