২টি নতুন সেক্টর চায় বিএসএফ
ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ (বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স) পশ্চিম ও পূর্ব কমান্ডে দুটি নতুন সেক্টর গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাবের আওতায় প্রায় দেড় ডজন ব্যাটালিয়ন গঠন এবং প্রায় ১৭ হাজার নতুন রক্ষী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত নয়াদিল্লি থেকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন মেলেনি।
পিটিআইয়ের বরাতে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিএসএফ নতুন করে ১৬টি ব্যাটালিয়ন গঠনের পরিকল্পনা করেছে এবং এতে প্রায় ১৭ হাজার প্রহরী নিযুক্ত হতে পারে। সীমান্ত পাহারার সক্ষমতা বাড়াতে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এক বিএসএফ কর্মকর্তা বিবিসি বাংলাকে জানান, বাহিনীর সামগ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে, এবং সে লক্ষ্যেই ভবিষ্যতের জন্য নতুন নিয়োগ পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে নতুন ব্যাটালিয়নের অনুমোদন এখনও সরকারের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। বর্তমানে বিএসএফে ১৯৩টি ব্যাটালিয়ন রয়েছে। বাহিনীর আরেক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই প্রস্তাব চার-পাঁচ বছর আগের, এবং এখনো তা প্রস্তাব হিসেবেই আছে—সরকারিভাবে অনুমোদিত হয়নি।
আরও একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন, সংবাদমাধ্যমে এই বিষয়ে যেসব খবর এসেছে, সেগুলো বাহিনীর দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তবে বিএসএফের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি, এবং প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়েছে এমন তথ্যও বাহিনীর কাছে নেই।
মিজোরামে নতুন সেক্টরের সম্ভাবনা
বর্তমানে বিএসএফের পূর্ব কমান্ডের অধীনে ছয়টি ফ্রন্টিয়ার রয়েছে, যার মধ্যে ‘এম অ্যান্ড সি’ ফ্রন্টিয়ার মিজোরাম এবং আসামের কাছাড় সীমান্তে দায়িত্ব পালন করে। এই ফ্রন্টিয়ারের অধীনে মনিপুরেও বাহিনী শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত আছে।
এফ অ্যান্ড সি ফ্রন্টিয়ারের আওতায় এখন তিনটি সেক্টর রয়েছে—আইজল (মিজোরাম), শিলচর (আসাম) এবং মণিপুরে একটি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিষয়ক সেক্টর। মোট ১২টি ব্যাটালিয়ন এখানে কাজ করে।
এই এলাকায় নতুন একটি সেক্টর গঠনের প্রস্তাব অনেক আগে থেকেই রয়েছে, তবে এটি নতুন কোনো প্রতিক্রিয়ায় দেওয়া হয়নি। পূর্ব কমান্ডের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, এটি পুরনো একটি প্রস্তাব, নতুন কোনো ফ্রন্টিয়ার নয়, বরং বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যেই নতুন একটি সেক্টরের পরিকল্পনা। অন্যদিকে, উত্তর-পূর্ব ভারতে নিযুক্ত এক বিএসএফ কর্মকর্তা জানান, মিজোরামে নতুন সেক্টরের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বাহিনীর অভ্যন্তরেই বিভিন্ন মত রয়েছে।
এফ অ্যান্ড সি ফ্রন্টিয়ারের বাইরে পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতে আরও পাঁচটি ফ্রন্টিয়ার রয়েছে—দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গ, গৌহাটি, মেঘালয় এবং ত্রিপুরা। এছাড়া পূর্ব কমান্ডের অধীনে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর তিনটি ব্যাটালিয়ন রয়েছে। এই কমান্ড বাংলাদেশ সীমান্তের ৪,০৯৭ কিলোমিটার এলাকায় নজরদারি চালায়।
জম্মুতে নতুন সেক্টরের ভাবনা
পশ্চিম সীমান্ত, বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত বরাবর বিএসএফ সবসময় বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে। এই কমান্ডের অধীনে কাশ্মির, জম্মু, পাঞ্জাব, রাজস্থান ও গুজরাটে পাঁচটি ফ্রন্টিয়ার রয়েছে।
সাম্প্রতিক পহেলগামে হামলা ও সীমান্তে গুলিবর্ষণের ঘটনায় জম্মুতে নতুন একটি সেক্টর গঠনের বিষয়টি আবার আলোচনায় এসেছে। তবে দিল্লিতে বিএসএফ সদর দপ্তরের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, এটি নতুন কোনো প্রস্তাব নয়; বরং কয়েক বছর আগের একটি পরিকল্পনা।
পশ্চিম কমান্ডের আওতায় ২,২৯০ কিলোমিটার ভারত-পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সীমান্ত এবং ৩৩৯ কিলোমিটার নিয়ন্ত্রণ রেখা রয়েছে, যেখানে সেনাবাহিনীরাও দায়িত্ব পালন করে থাকে।
বিএসএফের তৃতীয় একটি কমান্ড রয়েছে যা মূলত সীমান্ত নয়, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত। এই ‘অ্যান্টি নকশাল অপারেশনস কমান্ড’ মধ্য ভারতের রাজ্যগুলোতে মাওবাদী দমনে কাজ করে।

.jpg)
.jpg)
.jpg)



.jpg)
.jpg)
.jpg)