ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের সাত বছর পর এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

রোববার (৪ মে) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলাটি দায়ের করেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের সংগঠক ও অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ মনসুর।

মামলায় অধ্যাপক আখতারুজ্জামানকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন তৎকালীন প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন, ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আবিদ আল হাসান, সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাবেক সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়, সহ-সভাপতি শাকিব হাসান সুইম, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সভাপতি মেহেদী হাসান, ডিইউ শিক্ষক সমিতির তৎকালীন সভাপতি ও পরবর্তী সময়ে উপাচার্য হওয়া ড. মাকসুদ কামাল এবং উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুস সামাদ।

মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ শতাধিক ছাত্রলীগ কর্মীকে বিবাদী করা হয়েছে।

রাশেদ খান বলেন, “২০১৮ সালের ৮ এপ্রিল কোটা সংস্কার আন্দোলনে পুলিশ টিয়ারশেল ও লাঠিচার্জ চালালে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলনে অংশ নেন। ৯ এপ্রিল রাত ১টার দিকে ‘ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ’ লেখা গেঞ্জি পরা কিছু যুবক উপাচার্যের বাসভবনের গেট ভেঙে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।”

তিনি দাবি করেন, “আমি কোনো অপরাধ না করেও ওই সময় শেখ হাসিনাকে কটূক্তির অভিযোগে ১ জুলাই এবং বাসভবনে হামলার অভিযোগে ৮ জুলাই গ্রেপ্তার হই। ১৫ দিন রিমান্ডে রেখে আমাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মামলা দায়েরের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছিলাম। এবার এই মামলা দায়ের করেছি, যাতে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হয়।”

রাশেদ আরও অভিযোগ করেন, “তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা আল নাহিয়ান খান জয় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছিলেন। জাহাঙ্গীর কবির নানক ও এনামুল হক শামীম ঢাবির শিক্ষার্থী না হয়েও ক্যাম্পাসে ঢুকে ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন।”

তিনি জানান, ডাকসু নির্বাচনে অধিকার পরিষদের প্রার্থীরা ১১টি পদে জয়ী হলেও তা প্রকাশ করা হয়নি। বর্তমানে তদন্ত চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হয়েছে এবং প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই মামলার মধ্য দিয়ে ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময়কার আলোচিত ঘটনার নতুন করে বিচার ও তদন্তের দাবি আরও জোরালো হলো।