ভাঙ্গায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নিহত ১, আহত ৪০ জনেরও বেশি

ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের মকরমপুর্টি গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে কুদ্দুস মোল্লা (৬০) নামে একজন নিহত হয়েছেন। রবিবার (৪ মে) রাত ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত টানা তিন ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে নারী-পুরুষসহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। এসময় একাধিক বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।

আহতদের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মকরমপুর্টি গ্রামের দবির মাতুব্বর ও বজলু মুন্সির মধ্যে বিরোধ চলছিল। রবিবার রাত ৮টার দিকে দবির মাতুব্বরের ঘনিষ্ঠ সোলেমান মাতুব্বর ও বজলু মুন্সির অনুসারী শাহআলমের মধ্যে তর্কাতর্কির জেরে সংঘর্ষের সূচনা হয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্র, ইট-পাটকেল, লাঠিসোঁটা, টেটা ও রান্দা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

তিন ঘণ্টার এ সংঘর্ষে পুরো গ্রাম রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় কুদ্দুস মোল্লা (৬০) নামের একজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। সংঘর্ষে আহত অন্তত ৪০ জনের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. তাহসিন জুবায়ের বলেন, “সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ৬–৭ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। নিহত কুদ্দুস মোল্লার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মর্গে পাঠানো হচ্ছে।”

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত গ্রামে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ অতিরিক্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।