‘যত লিখবেন, সরকার তত ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে’ — প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম

ছবিঃ সংগৃহীত

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সিম্পোজিয়ামে নবীন সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, “আপনারা মন খুলে লিখতে থাকুন। যত লিখবেন, সাংবাদিকতা তত শক্তিশালী হবে। সরকার তত ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে এবং গণতন্ত্র তত শক্তিশালী হবে।”

এই সিম্পোজিয়ামটি বাংলাদেশি জার্নালিস্টস ইন ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া (বিজেআইএম) আয়োজিত হয় গত শনিবার (৩ মে) রাজধানীর আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকায়। অনুষ্ঠানের প্রথমার্ধে শফিকুল আলম উপস্থিত দর্শকদের সঙ্গে ‘গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে গণমাধ্যমের অবস্থা’ নিয়ে একটি প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক শরীফ খিয়াম আহমেদ।

দ্বিতীয়ার্ধে দিবসটি উপলক্ষে ছয়জন বিশিষ্ট সাংবাদিকের অংশগ্রহণে একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় অংশ নেন সাংবাদিক ও গবেষক এম আবুল কালাম আজাদ, সাংবাদিক সেলিম সামাদ, আয়শা কবীর, ওমর ফারুক, মুক্তাদির রশীদ এবং জায়মা ইসলাম। আলোচনায় উঠে আসে বাংলাদেশি সাংবাদিকতার জগতের পরিবর্তন ও অভিযোজন সংক্রান্ত বিভিন্ন দিক।

বিজেআইএমের আহ্বায়ক স্যাম জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন সংগঠনের সদস্য সচিব মুহাম্মদ আলী মাজেদ। সভাপতির বক্তব্যে স্যাম জাহান বলেন, “সম্ভবত অনেক অনেক বছরের মধ্যে এবারই প্রথম কিংবা হয়তো একেবারেই প্রথমবারের মতন বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস যথেষ্ট ঘটা করে বাংলাদেশে উদযাপিত হচ্ছে। এবং এর উদযাপনের আয়োজক হতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।”

অনুষ্ঠানে বিজেআইএম সদস্য তাসনীম খলিল ও তার সংবাদমাধ্যম নেত্রনিউজের সাম্প্রতিক স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রদত্ত ‘শোরেনস্টাইন অ্যাওয়ার্ড’ করতালির মাধ্যমে উদযাপন করা হয়।

মুহাম্মদ আলী মাজেদ বলেন, “আজকের দিনে আমাদের লক্ষ্য হলো, বিগত বছরগুলোতে আমরা এ দেশে সাংবাদিকতায় কী সমস্যা মোকাবিলা করেছি সেগুলোর ওপর আলোকপাত করা। সেই সঙ্গে সাংবাদিক হিসেবে পেশাগত নীতি পালনে আমরা কোথায় কোথায় আরও ভালো মোকাবিলা করতে পারতাম তা তুলে ধরা। কারণ মুক্ত গণমাধ্যম বলতে শুধু বহিঃশক্তি থেকে প্রভাবমুক্ত থাকা নয়, একই সঙ্গে নিজেদের ভেতরের পক্ষপাত থেকে মুক্ত থাকা।”

কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টসের (সিপিজে) এশিয়া বিষয়ক সমন্বয়ক বেহ লিহ য়ি বিজেআইএম এবং বাংলাদেশের সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “গত বছর দেশের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সময় আপনাদের প্রতিবেদন বিশ্বকে অবহিত রেখেছিল… আমি আশা করি, এই নতুন যুগ আপনার কাজ করার জন্য আরও স্বাধীনতা ও সুযোগ নিয়ে আসবে এবং সিপিজে এই যাত্রায় আপনার পাশে থাকবে।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন গণমাধ্যম ও অধিকারকর্মী, রাজনীতিবিদ, কলামিস্ট, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ জনগণ। স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।

এদিকে, বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে বাংলাদেশ এক বছরে ১৬ ধাপ এগিয়ে ১৪৯তম অবস্থানে উঠে এসেছে। তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম জানিয়েছেন, গণমাধ্যমে সরকারের হস্তক্ষেপ না থাকায় এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ দেশের সব গণমাধ্যম এখন সরকারের প্রভাবমুক্ত। কোনো গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে সরকারের পক্ষ থেকে টেলিফোন করে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে না।”

উপদেষ্টা আরও জানান, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী অতি শিগগিরই বেশ কিছু সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী বছরে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে বাংলাদেশ আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে যাবে এবং দেশের সাংবাদিক ও গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্টদের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই সিম্পোজিয়ামটি বাংলাদেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও শক্তিশালীকরণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।