স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক সংস্কারের সুপারিশ স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে স্বাস্থ্য খাতে সংস্কারবিষয়ক প্রতিবেদন জমা দেয় কমিশন। ছবি: সংগৃহীত
স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক সংস্কারের সুপারিশ করেছে স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশন। আজ সোমবার (৫ মে) সকালে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো, জনবল, শিক্ষা, বাজেট বরাদ্দ, আইন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের প্রধান সুপারিশসমূহ
১. স্বতন্ত্র ‘বাংলাদেশ স্বাস্থ্য সার্ভিস’ গঠন
বর্তমান বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের পরিবর্তে ‘বাংলাদেশ স্বাস্থ্য সার্ভিস’ নামে একটি স্বতন্ত্র কাঠামো গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি পরিচালনার জন্য পৃথক পাবলিক সার্ভিস কমিশন (PSC) গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবায় দক্ষতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
২. ক্যারিয়ার পরিকল্পনা ও পদোন্নতি
স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও প্রশাসন—এই তিনটি বিভাগে লাইন প্রমোশনের জন্য পর্যাপ্ত পদসোপান তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে কর্মকর্তাদের ‘সুপিরিয়র এক্সিকিউটিভ সার্ভিস’-এ প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টির সুপারিশ করা হয়েছে।
৩. স্বাস্থ্য শিক্ষা ও সেবা বিভাগের পৃথকীকরণ
চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে একাডেমিক ও সার্ভিস হাসপাতাল হিসেবে ভাগ করে তাদের ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ স্ব-স্ব বিভাগের অধীনে ন্যস্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে করে শিক্ষা ও সেবার মান উন্নত হবে এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমবে।
৪. জনবল নিয়োগ ও উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ
নতুন চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের আগে প্রয়োজনীয় ও দক্ষ জনবল নিয়োগ নিশ্চিত করা এবং উপস্থিতি নিশ্চিতকরণের জন্য ডিজিটাল হাজিরা ও সরেজমিনে তদারকি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এতে করে সেবার মান উন্নত হবে এবং জনবল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আসবে।
৫. বাজেট বরাদ্দ ও দালাল দমন
সরকারি হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংখ্যার পরিবর্তে চিকিৎসা গ্রহণকারী রোগীর সংখ্যা অনুপাতে বাজেট বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, দালালদের দৌরাত্ম্য রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
৬. স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন ও রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ
চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও রোগীদের স্বার্থে ভারসাম্য রেখে ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন এবং ল্যাবরেটরিগুলোর মান গ্রহণের জন্য একটি রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ সৃষ্টির সুপারিশ করা হয়েছে। এতে করে স্বাস্থ্যসেবায় মান নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
৭. ফিজিওথেরাপি বিভাগ ও পদ সৃষ্টি
সব সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল, আইএইচটি এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সদর জেনারেল হাসপাতালসমূহে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার জন্য ফিজিওথেরাপি বিভাগ এবং ফিজিওথেরাপিস্ট পদ সৃষ্টির প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে করে পুনর্বাসন সেবার মান উন্নত হবে।
৮. কমিউনিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র পরিচালনা
গ্রাম পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য বেসরকারি সংস্থাগুলোকে দায়িত্ব প্রদান এবং সরকার সুনির্দিষ্ট শর্তে বাজেট বরাদ্দ দিয়ে কেন্দ্রগুলো পরিচালনা আউটসোর্স করার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে করে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার মান ও প্রবেশযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে।
স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের এই সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যসেবায় গুণগত পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে, এসব সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক সক্ষমতা প্রয়োজন।
.jpg)




.jpg)
.jpg)
.jpg)