"প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টার পরামর্শ: খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষকের কল্যাণ—উভয়ই জরুরি"
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে যেন কৃষকের স্বার্থ উপেক্ষিত না হয়—এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, “শহরকেন্দ্রিক খাদ্য সরবরাহ ও মূল্য নিয়ন্ত্রণের অজুহাতে কৃষককে বঞ্চিত করা হচ্ছে। খাদ্য নিরাপত্তা শুধু ভোক্তার বিষয় নয়, এর সঙ্গে কৃষকের জীবন-জীবিকাও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আমাদের খাদ্যে সার্বভৌমত্ব অর্জনের মাধ্যমে এমন একটি কাঠামো তৈরি করতে হবে, যেখানে ভোক্তা ও কৃষক—উভয়েই উপকৃত হবেন।”
রাজধানীর একটি হোটেলে সোমবার সকালে বণিক বার্তার আয়োজনে অনুষ্ঠিত 'কৃষি, খাদ্যনিরাপত্তা ও কৃষকের ন্যায্যতা সম্মেলন ২০২৫'-এর প্রথম অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। অধিবেশনের শিরোনাম ছিল 'খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষকের ন্যায্যতা'।
উপদেষ্টা আরও বলেন, “কৃষির যান্ত্রিকীকরণ একটি বাস্তবতা, তবে সেটা যেন কৃষি ও প্রকৃতির জন্য ক্ষতিকর না হয়, সে বিষয়েও নজর রাখতে হবে। যান্ত্রিকীকরণের ফলে গবাদিপশুর ব্যবহার হ্রাস পাচ্ছে। আবার কৃষিজ উৎপাদনকে যদি শুধু শিল্প উৎপাদনের মতো দেখি, তবে সেটি খাদ্য নয়, পণ্য হয়ে দাঁড়াবে। এতে কৃষক এবং কৃষির অস্তিত্বই ঝুঁকির মুখে পড়বে।”
তিনি বলেন, একসময় কৃষির অধীনেই মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ ছিল, বর্তমানে এগুলো আলাদা হলেও একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত। বাংলাদেশের উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছ আহরণে দেশের অবস্থান বিশ্বে দ্বিতীয় হলেও নদী-নালা, হাওর ও জলাশয় ধ্বংস হওয়ায় এই অর্জন হুমকির মুখে। কৃষিতে ব্যবহৃত কীটনাশকের কারণে মাছসহ নানা প্রাণীর মৃত্যু ঘটছে, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক।
হাওরে কীটনাশক ব্যবহারের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “হাওর হচ্ছে দেশীয় মাছের অন্যতম বড় উৎস। অথচ সেখানে আগাছা পরিষ্কারে কীটনাশক ব্যবহার করে প্রাণবৈচিত্র্যের ক্ষতি করা হচ্ছে। এমনও দেখা গেছে, কীটনাশকযুক্ত বাঁধাকপি খেয়ে ছাগলের মৃত্যু হয়েছে। সেই একই সবজি মানবদেহে প্রবেশ করছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। কৃষকদের মধ্যে এই বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।”
দেশে মাংস উৎপাদনে উদ্বৃত্ত থাকা সত্ত্বেও আমদানি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “বর্তমানে দেশে এক কোটি ২৪ লাখ গরু-ছাগল মজুদ রয়েছে, যা চাহিদার তুলনায় ২২ লাখ বেশি। অথচ যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনার মতো দেশ থেকে সস্তা দামে মাংস আমদানির প্রস্তাব আসছে। এটা করলে আমাদের লাখ লাখ খামারি টিকে থাকতে পারবে না।”
তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, “আগস্টের বন্যার সময় ডিমের মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে আমদানি করা হয়েছিল। এতে স্থানীয় উৎপাদকরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। একই ভুল যেন মাংস আমদানির ক্ষেত্রেও না হয়।”
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বণিক বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ।
প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ড. জাহাঙ্গীর আলম, টি.কে গ্রুপের গ্রুপ ডিরেক্টর মোহাম্মদ মুস্তফা হায়দার, এসিআই এগ্রি বিজনেস ডিভিশনের প্রেসিডেন্ট ড. এফ এইচ আনসারী এবং ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান।
সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সম্মেলনে অংশ নেন।
.jpg)
.jpg)




.jpg)
.jpg)
.jpg)