ছাত্রদল নেতা আবিদ হত্যা মামলার আসামীরা ঘুরে বেড়াচ্ছে
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রদলের সাবেক নেতা আবিদুর রহমানের হত্যা মামলার আসামীরা এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আবিদুর রহমান তখন ২০০৮-২০০৯ শিক্ষা বর্ষের ডেনটিস্ট্রি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তাকে হত্যার সাথে জড়িতরা প্রায় সবাই চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের কাছাকাছি বর্ষের ছাত্র এবং এরা সবাই ছিলেন আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন (এখন নিষিদ্ধ) ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী।
আবিদের সাথে কাছাকাছি বর্ষের তখনকার চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের ছাত্ররা (এরা প্রায় সবাই এখন ডাক্তার) নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, আবিদকে প্রথমে ছাত্রলীগে নেতা-কর্মীরা হোস্টেলে পিটিয়েছে, পরে আবিদ মেসে গেলে সেখানেও আরেক দফা পিটিয়েছে সবাই মিলে। মেস থেকে আবার চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র সংসদে নিয়ে পেটানো হয়েছে। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি না করে বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছে। আবিদের বোন আবিদকে প্রাইভেট একটি হাসপাতালে ভর্তি করলে ছাত্রলীগের এই ক্যাডাররা আবিদকে আবার চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।
আবিদের সাথে যারা পড়তেন তারা জানিয়েছেন, প্রাইভেট হাসপাতালে থাকলে সব তথ্য ফাঁস হয়ে যাবে বলে আবার আবিদকে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে আইসিইউতে আবিদ মারা যায়। এ ঘটনায় আবিদের মামা নেয়ামত উল্লাহ পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন ৪/৫ জন অজ্ঞাতসহ ২২ জনের নাম উল্লেখ করে। এদের মধ্যে আবার পরে প্রভাব দেখেয়ে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেয়।
আবিদের ক্লাসমেটরা নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, আবিদ হত্যার সাথে জড়িতদের বেশির ভাগই বর্তমানে ডাক্তার এবং ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে কর্মরত। এদের কয়েকজন আবার বিদেশে অবস্থান করছেন।
আবিদুর রহমান হত্যা মামলায় প্রথম নামটি ডা. মফিজুর রহমান জুম্মা। বর্তমানে তিনি ঢাকার মাতুয়াইলের শিশু মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার পদে কর্মরত আছেন। ডা. হিমেল চাকমা বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (সাবেক পিজি) অর্থডনশিয়া বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার। ডা. ফেরদৌস রাসেল রেসিডেন্ট হিসেবে আছেন মহাখালী যক্ষা হাসপাতালে। শ্যামলীর ঢাকা শিশু হাসপাতালের আরএমও হিসেবে আছেন ডা. সোহেল পারভেজ সুমন। মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. শান্ত দেবনাথ। ডা. অর্ণব বড়ুয়া ডেভিড আছেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ওরাল অ্যান্ড মেক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি বিভাগে মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে। ডা. ওমর ফারুকও আছেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ওরাল অ্যান্ড মেক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে।
আবিদ হত্যা মামলায় ডা. ওমর ফারুকের নাম প্রথমে থাকলেও কেন্দ্রীয় লীগের নেতা হিসেবে প্রভাব বিস্তার করে মামলা থেকে তার নাম প্রত্যাহার করে নেয়া হয় বলে আবিদের সহপাঠীরা জানিয়েছেন। ডা. ওমর ফারুককে গত শনিবার শাহবাগ থানা পুলিশ গ্রেফতার করেছে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর মামলায়।
ডা. বিজয় সরকার আছেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোলজি বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে। ডা. রাশেদুর রেজা সানি বর্তমানে যুক্তরাজ্যে আছেন। ডা. দেবাশীষ কর্মরত আছেন চট্টগ্রামের এভারকেয়ার হাসপাতালে এনাসথেশিয়া বিভাগে। ডা. সালমান মাহমুদ সিদ্দিকী রাফসান বর্তমানে জাপানে আছেন। তিনি কর্মরত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিক্যালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজেক্টে। ডা. মাহফুজুর রহমান ধীমান আছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে।
ডা. মোস্তফা কামাল বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলজি বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে আছে ডা. নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী শুভ। ডা. ইশতিয়াক ইসলাম খান আছেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে এনাসথেশিয়া বিভাগে। বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশুরোগ বিভাগে আছেন ডা. মাহিদুর রহমান। ডা. রাশেদুল ইসলাম আছেন যুক্তরাজ্যে। ঢাকার আইসিডিডিআরবিতে আছেন নাবিদ আনজুম তানভীর
ডা. আসিফ কামাল কোথায় আছেন জানা যায়নি। ডা. ইরফান শুভ আছেন যুক্তরাজ্যে। ডা. ইরাজুল আমিন আছেন রামু ক্যান্টনমেন্টে। এস এম হারুনুর রশিদ এখনো পাস করতে পারেনি। এখনো চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের ডেন্টাল ইউনিটের ছাত্র। কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আছেন ডা. মিনহাজুর রহমান। ডা. সাইফুল আমিন আছেন জাপানে।
.jpg)
.jpg)




.jpg)
.jpg)
.jpg)