ছবি: সংগৃহীত

🔌 বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সংস্কার থমকে: কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নে ধীরগতি, বাড়ছে জনভোগান্তি

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের অন্যান্য খাতের মতো বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতেও সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছিল। উদ্দেশ্য ছিল অতীতের চুক্তি ও প্রকল্পগুলোর স্বচ্ছতা, ব্যয় ও জনস্বার্থ নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা। তবে সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোর কাজ চললেও বাস্তব অগ্রগতি খুবই সীমিত।

 

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সম্পাদিত চুক্তিগুলো পর্যালোচনার জন্য একটি জাতীয় কমিটি গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। আদানি, সামিট, বেক্সিমকো ও ইন্ট্রাকোসহ ১১ বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তি এই কমিটির পর্যালোচনায় আসে। কমিটি আন্তর্জাতিক আইনি ও তদন্তকারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগের সুপারিশ করে। কিন্তু পাঁচ মাস পার হলেও সেই সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়নি।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেন, “আন্তর্জাতিক তদন্তকারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগের বিষয়টি সচিব পর্যায়ে আলোচনা চলছে।” তবে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ফারজানা মমতাজ এ বিষয়ে সাড়া দেননি। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের যুগ্মসচিব অঞ্জনা খান মজলিশ জানিয়েছেন, কমিটির কাজ চলমান রয়েছে।

 

বিদ্যুৎ খাতে ব্যয় কমাতে চলতি বছরের জানুয়ারিতে গঠিত হয় ট্যারিফ পর্যালোচনা কমিটি। তিন মাস অতিক্রম করলেও এখনও কোনো সুপারিশ আসেনি। বিষয়টি নিয়ে উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান জানান, “ট্যারিফ কমিটির কাজ এখনো প্রক্রিয়াধীন।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ খাতে ডলারে ক্রয়চুক্তির কারণে বিপিডিবি দীর্ঘদিন আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। টাকার অবমূল্যায়নের ফলে এ ক্ষতি আরও বেড়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় মুদ্রায় চুক্তি করার সুপারিশ থাকলেও সরকার এখনো সে পথে অগ্রসর হয়নি।

 

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিনা দরপত্রে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের চুক্তি, যেমন ভারতের আদানি পাওয়ারের ক্ষেত্রে, ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। বিশেষ সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি কোম্পানিগুলোর পকেটে ঢুকেছে বিপুল অর্থ। এই অনিয়মের খেসারত দিতে হয়েছে সাধারণ জনগণকে, কারণ লোকসান পূরণে বারবার বাড়ানো হয়েছে বিদ্যুতের দাম।

 

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বলেন, “বিদ্যুৎ খাতে কোনো কার্যকর সংস্কার এখনো দৃশ্যমান নয়। জমা দেওয়া প্রতিবেদনগুলো ভাসাভাসা, সিদ্ধান্তহীন এবং সরকারের নিষ্ক্রিয়তাও চোখে পড়ে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “সরকারের মধ্যে অনাগ্রহ রয়েছে, কারণ তারা মনে করছে বেশিদিন ক্ষমতায় থাকছে না।”

 

বিদ্যুৎ খাতে সংস্কারের নামে যাত্রা শুরু হলেও বাস্তব অগ্রগতির চিত্র হতাশাজনক। জনস্বার্থে চুক্তি পর্যালোচনা, ব্যয় হ্রাস ও নীতিগত পরিবর্তন জরুরি হলেও তা কার্যকর করতে সরকারের মধ্যে দৃশ্যমান উদ্যোগের অভাব রয়েছে। এতে করে সরকার যেমন আন্তর্জাতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে, তেমনি ক্ষতির ভার বইতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।