৮৩ টি মামলায় হেফাজতের ৮৪ হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ঝুলছে মামলা
২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ও পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোর অগ্রগতি নিয়ে আপনার উদ্বেগ যুক্তিযুক্ত। এই মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে, যা দেশের বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতার প্রশ্ন তোলে।
-
মামলার সংখ্যা ও আসামি: ২০১৩ সালের ঘটনায় ঢাকাসহ সাতটি জেলায় হেফাজতের বিরুদ্ধে মোট ৮৩টি মামলা দায়ের করা হয়, যার মধ্যে ঢাকায় ৫৩টি মামলা হয়। এই মামলাগুলোতে ৩,৪১৬ জনের নামসহ মোট ৮৪,৭৯৬ জনকে আসামি করা হয়।
-
তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া: এই মামলাগুলোর মধ্যে মাত্র ১৫টির অভিযোগপত্র আদালতে জমা পড়েছে। বাকি মামলাগুলোর তদন্ত এখনও সম্পন্ন হয়নি, এবং যেগুলোর তদন্ত শেষ হয়েছে, সেগুলোর বিচার প্রক্রিয়াও শুরু হয়নি।
-
নতুন মামলা ও গ্রেপ্তার: ২০২১ সালের মার্চ মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের সময় হেফাজতের বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনায় আরও ১৫৪টি মামলা দায়ের করা হয়। এই মামলাগুলোর তদন্তও চলমান রয়েছে।
-
সাবেক পুলিশ প্রধানের মন্তব্য: সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক বলেছেন, মামলাগুলো থামিয়ে রেখে কোনো লাভ হয়নি এবং এগুলো সচল করা উচিত ছিল।
-
মানবাধিকার সংস্থার দাবি: মানবাধিকার সংগঠন 'অধিকার' দাবি করে, শাপলা চত্বরে অভিযানে ৬১ জন নিহত হন, যদিও পুলিশের দাবি, রাতের অভিযানে কেউ মারা যাননি।
-
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানা: ২০২৫ সালের মার্চ মাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শাপলা চত্বরে 'গণহত্যা'র অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এই মামলায় শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন, এবং বাকি চারজন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।
হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর দীর্ঘসূত্রতা ও বিচার প্রক্রিয়ার স্থবিরতা দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা কমিয়ে দেয়। এই মামলাগুলোর দ্রুত তদন্ত ও বিচার সম্পন্ন করা প্রয়োজন, যাতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়।
.jpg)
1.jpg)




.jpg)
.jpg)
.jpg)
.jpg)