ছাত্রদলের ছেড়ে যুবদলের পদ চান আল-আমিন!
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল শাখার সদস্য সচিব আল আমিন। নিজ ইউনিটের সাংগঠনিক কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় হলেও যুবদলের পদ নিতে দিয়েছেন সাক্ষাৎকার। এমন ঘটনায় ক্ষুব্ধ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
সম্প্রতি যুবদলের পদ পেতে ঢাকায় আল-আমিনের সাক্ষাৎকার দেয়ার কিছু ছবিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এরপর থেকেই শুরু হয়েছে সমালোচনা। সংগঠনটির এক যুগ্ম আহ্বায়ক বলেন, আমাদের সদস্য সচিব ছাত্রদলের পদ আটকে রেখে নিজেও নিস্ক্রিয়, সেই সঙ্গে সংগঠনের কার্যক্রমকেও ধীরগতি করে ফেলছে। সেই সুযোগে সক্রিয় হচ্ছে গুপ্ত সংগঠন। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে ছাত্রদল নেতৃত্ব সংকটে পড়বে। তাছাড়া সে ক্যাম্পাসেও অনিয়মিত।
৫ আগস্টের পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ছাত্রদলের কোনো কর্মসূচি পালন করতে না দেখা গেলেও গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে তৎপর হতে দেখা গেছে ছাত্রদল নেতাদের। যেখানে বিভিন্ন অভিযোগও উঠেছে আহ্বায়ক কমিটির নেতাদের বিরুদ্ধে। সর্বশেষ ২০২১ সালের ৬ জুন ইমরান হোসেন প্রধানকে আহ্বায়ক এবং আল আমিনকে সদস্য সচিব করে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ২৭ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।
ছাত্রদলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদ ৩ মাস হলেও প্রায় চার বছর ধরে আহ্বায়ক কমিটি দিয়েই চলছে ইউনিটটির সাংগঠনিক কার্যক্রম। এদিকে আহ্বায়ক কমিটির অধিকাংশ সদস্যের ছাত্রত্ব না থাকা এবং সদস্য সচিবের নিষ্ক্রিয়তায় অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা এবং বিভাজন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে ৫টি সাব-গ্রুপে বিভক্ত হয়ে রাজনীতি করছেন নেতাকর্মীরা। সম্প্রতি আবাসিক হলে প্রভাববিস্তার, ছাত্রলীগকে পুনর্বাসন এবং সিট দখলকে কেন্দ্র করে সুস্পষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে আহ্বায়ক কমিটির এক সদস্যকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যহতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।
সংগঠনটির আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক বলেন, আল আমিন যুবদল করুক আমরা তাকে নিয়ে গর্ববোধ করবো। কিন্তু ছাত্রদলের পদ আঁকড়ে থেকে সংগঠনকে নিষ্ক্রিয় রেখে নিজের পদের লোভ নিয়ে ছাত্রদলের ক্ষতি করবে তা আমরা মানতে পারি না।
সর্বশেষ কবে ক্যাম্পাসে এসেছিলেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো উত্তর দিতে পারেননি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আল আমিন। নিষ্ক্রিয়তার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, সবার পার্সোনালিটির সাথে আমাকে মিলিয়ে লাভ নাই। সব প্রোগ্রামে কি থাকা লাগে? ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের যতো প্রোগ্রাম হয় সবকিছুর ডিরেকশন আমি দেই।
যুবদলের পদপ্রার্থী হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, যুবদলের প্রোগ্রামের দিন আমি ঢাকায় ছিলাম, এজন্য গেছিলাম। আর আমার বাড়ি গফরগাঁওয়ে, ময়মনসিংহের কোথায় কোন রাজনীতি হয়, খেয়াল রাখতে হয়, যেহেতু পরে রাজনীতি করতেই হবে। আর আমি এখনো পোস্টেড হইনি, হইলে জানাবো। তবে শাখা ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ সাব-গ্রুপ এবং বিভাজন বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
সংগঠনের এমন পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমরান হোসেন প্রধান বলেন, পারিবারিক কিছু কারণে আল আমিন দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত। তবে আমার সাথে যোগাযোগ হয়। যুবদলের সভায় উপস্থিতির বিষয়টি জানতে পেরেছি। যুবদলের কমিটির ব্যাপারে সেই ভালো বলতে পারবে, এব্যাপারে আমার কিছু বলার নেই। আমরা নিজেদের মতো সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছি।
এ বিষয়ে জানতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা এবং হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি।
.jpg)
1.jpg)




.jpg)
.jpg)
.jpg)
.jpg)